গাজীপুরের পূবাইলে হানিট্র্যাপ চক্রের মূলহোতা গ্রেফতার, মোটরসাইকেল ও স্ট্যাম্প উদ্ধার

শফিকুল ইসলাম শেখ :
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) পূবাইল থানা পুলিশ এক অভিযান পরিচালনা করে একটি সংঘবদ্ধ হানিট্র্যাপ (ব্ল্যাকমেইল) চক্রের ১ জন এজাহারনামীয় আসামিকে গ্রেফতার করেছে। এ সময় তার হেফাজত থেকে লুণ্ঠিত মোটরসাইকেল, স্মার্টফোন এবং জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্প উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামির নাম মো. সোহেল মিয়া (৪২)। তিনি মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার আধকানী জালালাপুর গ্রামের লাল মিয়া ও ছানোয়ারা বেগমের ছেলে। বর্তমানে তিনি গাজীপুর মহানগরের পূবাইল থানাধীন ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের মাজুখান এলাকার ফাহিমা বেগমের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী ‘রেইনবো কমর্শিয়াল অ্যান্ড এসএস লিমিটেড’-এর ইসিবি চত্বর, ক্যান্টনমেন্ট, ঢাকার একজন জেনারেল ম্যানেজার। এজাহারনামীয় আসামিরা হলেন—১। জান্নাতুল ফেরদৌস দোলা (২৮), ২। মো. সোহেল মিয়া (৪২), ৩। সোনিয়া রহমান স্বর্ণা (৩০), এবং ৪। মো. অপু (৪২)।
১ ও ৩ নম্বর বিবাদীদ্বয় পূর্বে বাদীর প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন এবং দুই মাস আগে তা ছেড়ে দেন। গত ৫ নভেম্বর ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে তারা বাদীকে অন্য কোম্পানিতে ভালো বেতনে চাকরি দেওয়ার লোভ দেখিয়ে পূবাইল থানাধীন মাজুখান এলাকায় ১ নম্বর বিবাদীর ভাড়াকৃত বাসায় ডেকে নেন। সেখানে চা-নাস্তা খাওয়ার একপর্যায়ে ১ ও ৩ নম্বর বিবাদীর পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ২ ও ৪ নম্বর বিবাদীসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুজন বাসায় প্রবেশ করে।
তারা ৩ নম্বর বিবাদীর সাথে বাদীর অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে মর্মে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বাদীকে আটকে রাখে। বাদীর সাথে কোনো পরকীয়ার সম্পর্ক নেই বলে দাবি করলেও আসামিরা তাকে এলোপাতাড়ি মারপিট করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। পরবর্তীতে বাদীর স্ত্রীর কাছে ফোন করে বাদী দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন বলে মিথ্যা তথ্য দিয়ে টাকা দাবি করে।
টাকা আদায় করতে না পেরে আসামিরা বাদীর কাছে থাকা নগদ ২৮,০০০ টাকা, বাদীর বিকাশ নম্বর (০১৩২০-৫০০৫১১) থেকে অজ্ঞাতনামা বিকাশ নম্বরে ৩,০০০ টাকা এবং ২টি স্মার্ট মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এছাড়া ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া বাদীর ব্যবহৃত একটি লাল-কালো রঙের পালসার ১৫০ সিসি মোটরসাইকেল ১,৩০,০০০ টাকায় তাদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে—এমন ভুয়া তথ্যের নন-জুডিসিয়াল একশ টাকার তিনটি অসম্পূর্ণ কম্পিউটার টাইপ করা স্ট্যাম্পে বাদীর স্বাক্ষর ও ভিডিও ধারণ করে নেওয়া হয়। এরপর আসামিরা প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে বাদীকে মোটরসাইকেল বিক্রিতে আপত্তি নেই বলতে বাধ্য করে এবং মোটরসাইকেলটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী বাদী পূবাইল থানায় উপস্থিত হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে নিয়মিত মামলা রুজু করে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মো. রফিকুল ইসলাম বিশ্বস্ত সূত্রে সংবাদ পেয়ে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে ২ নম্বর আসামি মো. সোহেল মিয়াকে গ্রেফতার করেন। এ সময় তার হেফাজত থেকে লুণ্ঠিত ১টি মোটরসাইকেল, ১টি স্মার্ট মোবাইল ফোন এবং ৩টি নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্প উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদনসহ বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। চক্রের বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



